বাংলাদেশের আর্থিক টিপস · 18 মিনিট পড়া ·

আয়কর রিটার্ন জমার নিয়ম ২০২৬–২৭: অনলাইন গাইড

বাংলাদেশে আয়কর রিটার্ন দাখিলের নিয়ম ২০২৬–২৭ জানুন। করমুক্ত আয়সীমা, নতুন করহার, e-Return নিবন্ধন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, কর পরিশোধ ও রিটার্ন জমার শেষ সময়সহ সম্পূর্ণ গাইড।

লেখক: Mamun Hossen — প্রতিষ্ঠাতা, Jomakhoros.Com | প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিপ্রেমী

বাংলাদেশে আয়কর রিটার্ন দাখিলের নিয়ম ২০২৬-২৭, করমুক্ত আয়সীমা, নতুন করহার ও অনলাইনে e-Return জমা দেওয়ার পদ্ধতি

বাংলাদেশে আয়কর রিটার্ন দাখিল করা শুধু কর পরিশোধের বিষয় নয়, এটি একজন নাগরিকের আর্থিক স্বচ্ছতা ও আইনগত দায়িত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, ফ্রিল্যান্সার, বাড়িভাড়ার আয়কারী কিংবা বিভিন্ন উৎস থেকে আয় করেন এমন অনেক ব্যক্তির জন্য আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক।

২০২৬–২৭ করবর্ষে বাংলাদেশের আয়কর ব্যবস্থায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। সাধারণ ব্যক্তি করদাতার করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধি, নতুন করহার, ন্যূনতম কর এবং অনলাইনে রিটার্ন জমার সময়সীমা সম্পর্কে জানা এখন বিশেষভাবে প্রয়োজন।

আপনি যদি জানতে চান ২০২৬ সালে বাংলাদেশে আয়কর রিটার্ন কীভাবে জমা দেবেন, কত টাকা আয় হলে কর দিতে হবে, TIN থাকলে রিটার্ন বাধ্যতামূলক কি না অথবা ঘরে বসে অনলাইনে e-Return কীভাবে পূরণ করবেন, তাহলে এই গাইডটি আপনার জন্য।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (NBR) প্রকাশিত ২০২৬–২৭ করবর্ষের নির্দেশিকা, অর্থ আইন ২০২৬ এবং e-Return সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশনার আলোকে এখানে বিষয়গুলো সহজভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

সর্বশেষ তথ্য হালনাগাদ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬

এক নজরে আয়কর রিটার্ন ২০২৬–২৭

বিষয়তথ্য
করবর্ষ২০২৬–২৭
আয়বর্ষ১ জুলাই ২০২৫ – ৩০ জুন ২০২৬
সাধারণ করমুক্ত আয়সীমা৪,০০,০০০ টাকা
নারী ও ৬৫ বছর বা বেশি বয়সী৪,৫০,০০০ টাকা
প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গ৫,২৫,০০০ টাকা
যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও আহত গেজেটভুক্ত জুলাই যোদ্ধা৫,৫০,০০০ টাকা
সর্বোচ্চ সাধারণ ব্যক্তিগত করহার৩০%
প্রচলিত ন্যূনতম কর৫,০০০ টাকা
নতুন করদাতার ন্যূনতম কর১,০০০ টাকা
রিটার্ন জমার বিশেষ শেষ তারিখ৩০ জুন ২০২৭
অনলাইন রিটার্নe-Return Portal

অফিসিয়াল ওয়েবসাইট: https://etaxnbr.gov.bd

১. করবর্ষ ২০২৬–২৭ এবং আয়বর্ষ কী?

আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার আগে আয়বর্ষ (Income Year) এবং করবর্ষ বা Assessment Year-এর পার্থক্য বোঝা জরুরি।

বাংলাদেশে সাধারণত ১ জুলাই থেকে পরবর্তী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়কে একটি আয়বর্ষ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

২০২৬–২৭ করবর্ষের ক্ষেত্রে:

  • আয়বর্ষ: ১ জুলাই ২০২৫ থেকে ৩০ জুন ২০২৬।
  • করবর্ষ: ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ৩০ জুন ২০২৭।

অর্থাৎ, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত আপনার বেতন, ব্যবসা, বাড়িভাড়া, বিনিয়োগ এবং অন্যান্য উৎস থেকে অর্জিত আয় বিবেচনা করে ২০২৬–২৭ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন প্রস্তুত করতে হবে।

এখানে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি: ২০২৬–২৭ করবর্ষের রিটার্নে ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত আয় যোগ করা যাবে না। ওই সময়ের আয় পরবর্তী প্রযোজ্য করবর্ষে বিবেচিত হবে।

২. ২০২৬–২৭ করবর্ষে করমুক্ত আয়সীমা কত?

২০২৬ সালের অর্থ আইন অনুযায়ী, সাধারণ ব্যক্তি করদাতার বার্ষিক করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

আগের প্রস্তাবিত বাজেটে সাধারণ করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা থাকলেও চূড়ান্ত অর্থ বিল পাসের পর তা বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করা হয়।

বিভিন্ন শ্রেণির করদাতার করমুক্ত আয়সীমা নিচে দেওয়া হলো।
২০২৬–২৭ করবর্ষে বাংলাদেশে আয়কর রিটার্ন দাখিলের নিয়ম, করমুক্ত আয়সীমা, নতুন করহার, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং NBR-এর e-Return পোর্টালে অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়ার সম্পূর্ণ নির্দেশিকা।

করদাতার শ্রেণিকরমুক্ত আয়সীমা
সাধারণ ব্যক্তি করদাতা৪,০০,০০০ টাকা
নারী করদাতা৪,৫০,০০০ টাকা
৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী করদাতা৪,৫০,০০০ টাকা
প্রতিবন্ধী ব্যক্তি৫,২৫,০০০ টাকা
তৃতীয় লিঙ্গের করদাতা৫,২৫,০০০ টাকা
গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা৫,৫০,০০০ টাকা
গেজেটভুক্ত আহত জুলাই যোদ্ধা৫,৫০,০০০ টাকা

প্রতিবন্ধী সন্তান বা নির্ভরশীল ব্যক্তির বাবা-মা অথবা আইনগত অভিভাবকের করমুক্ত আয়সীমায় প্রত্যেক যোগ্য নির্ভরশীলের জন্য অতিরিক্ত ৫০,০০০ টাকা যুক্ত হতে পারে।

বাবা ও মা উভয়েই করদাতা হলে তাঁদের মধ্যে যেকোনো একজন এই সুবিধা নিতে পারবেন।

উদাহরণ: একজন সাধারণ ব্যক্তির বার্ষিক মোট করযোগ্য আয় ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা হলে সাধারণ করমুক্ত সীমা ৪ লাখ টাকা হওয়ায় এই আয়সীমার ভিত্তিতে তাঁর আয়কর শূন্য হবে। তবে অন্যান্য আইনগত কারণে তাঁর রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা থাকতে পারে।

৩. ২০২৬–২৭ করবর্ষে আয়করের নতুন হার

বাংলাদেশে ব্যক্তি করদাতাদের জন্য প্রগতিশীল করহার (Progressive Tax Rate) অনুসরণ করা হয়।

এর অর্থ হলো, আপনার পুরো আয়ের ওপর একই হারে কর ধার্য হয় না। বরং করমুক্ত সীমার পরবর্তী আয়ের বিভিন্ন অংশের ওপর আলাদা আলাদা হারে কর হিসাব করা হয়।

২০২৬–২৭ করবর্ষে সাধারণ ব্যক্তি করদাতার আয়কর হার:

আয়ের ধাপকরহার
প্রথম ৪,০০,০০০ টাকা০%
পরবর্তী ৩,০০,০০০ টাকা১০%
পরবর্তী ৪,০০,০০০ টাকা১৫%
পরবর্তী ৫,০০,০০০ টাকা২০%
পরবর্তী ২০,০০,০০০ টাকা২৫%
অবশিষ্ট আয়৩০%

অর্থাৎ, আগের ৫% করের ধাপটি বাদ দিয়ে প্রথম করযোগ্য ধাপে ১০% কর নির্ধারণ করা হয়েছে।

আয়কর হিসাব করার উদাহরণ

ধরা যাক, একজন সাধারণ ব্যক্তির ২০২৫–২৬ আয়বর্ষে মোট করযোগ্য আয় ৭,০০,০০০ টাকা।

তাঁর আয়করের হিসাব হবে:

আয়ের বিবরণহিসাবকর
প্রথম ৪,০০,০০০ টাকাকরমুক্ত০
পরবর্তী ৩,০০,০০০ টাকা৩,০০,০০০ × ১০%৩০,০০০
মোট প্রাথমিক আয়কর৩০,০০০ টাকা

অর্থাৎ, বিনিয়োগজনিত কর রেয়াত বা অন্যান্য আইনসম্মত সমন্বয়ের আগে তাঁর প্রাথমিক আয়কর ৩০,০০০ টাকা।

মনে রাখবেন, এই হিসাব একটি সাধারণ উদাহরণ। আপনার বিনিয়োগ, উৎসে কর্তিত কর, ন্যূনতম কর এবং অন্যান্য প্রযোজ্য বিধান অনুযায়ী চূড়ান্ত করের পরিমাণ পরিবর্তিত হতে পারে।

৪. ২০২৬–২৭ করবর্ষে ন্যূনতম আয়কর কত?

করমুক্ত আয়সীমা অতিক্রম করার পর হিসাব করা করের পরিমাণ খুব কম হলেও প্রযোজ্য ন্যূনতম কর পরিশোধ করতে হতে পারে।

২০২৬–২৭ করবর্ষে সাধারণভাবে:

  • বিদ্যমান করদাতার ন্যূনতম কর: ৫,০০০ টাকা।
  • নতুন করদাতার ন্যূনতম কর: ১,০০০ টাকা।

উদাহরণস্বরূপ, কোনো বিদ্যমান সাধারণ করদাতার হিসাব করা আয়কর যদি ৩,০০০ টাকা হয়, তাহলে প্রযোজ্য ন্যূনতম করের বিধান অনুযায়ী তাঁকে ৫,০০০ টাকা দিতে হতে পারে।

তবে নতুন করদাতার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিশেষ ন্যূনতম করের সুবিধা রয়েছে।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: ন্যূনতম কর এবং করমুক্ত আয়সীমা এক বিষয় নয়। আয় করমুক্ত সীমা অতিক্রম না করলে শুধু ন্যূনতম করের বিধানের কারণে সবাইকে ৫,০০০ টাকা দিতে হয় না।

আয়কর ক্যালকুলেটর দিয়ে ২০২৬–২৭ করবর্ষের কর হিসাব করুন

আপনার বার্ষিক আয় অনুযায়ী কত টাকা আয়কর দিতে হতে পারে, তা আগে থেকেই জেনে নেওয়া ভালো। বাংলাদেশের ২০২৬–২৭ করবর্ষের আয়কর হার ও করমুক্ত আয়সীমা বিবেচনা করে নিজের সম্ভাব্য করের পরিমাণ হিসাব করতে পারেন।

নিজের আয়, বেতন, অন্যান্য উৎস থেকে আয় এবং প্রযোজ্য বিনিয়োগ বা কর রেয়াতের তথ্য ব্যবহার করে প্রাথমিকভাবে করের পরিমাণ অনুমান করুন।

আয়কর হিসাব করতে কী কী তথ্য প্রয়োজন?

সাধারণত আয়কর হিসাবের জন্য নিচের তথ্যগুলো প্রয়োজন হতে পারে:

  • বার্ষিক বেতন বা চাকরি থেকে আয়
  • বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতা
  • উৎসব বোনাস ও অন্যান্য আয়
  • বাড়িভাড়া বা সম্পত্তি থেকে আয়
  • ব্যবসা বা পেশা থেকে আয়
  • ব্যাংক আমানত বা বিনিয়োগ থেকে আয়
  • অনুমোদিত বিনিয়োগ ও কর রেয়াতের তথ্য
  • আগে উৎসে কর্তন করা আয়কর

JomaKhoros আয়কর ক্যালকুলেটর ব্যবহার করুন

নিজের আয় ও প্রযোজ্য তথ্য দিয়ে সম্ভাব্য আয়কর হিসাব করতে JomaKhoros-এর আয়কর ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারেন।

আয়কর ক্যালকুলেটর ব্যবহার করুন →

ক্যালকুলেটরের ফলাফলকে প্রাথমিক হিসাব হিসেবে বিবেচনা করুন। প্রকৃত কর নির্ধারণের সময় আয়কর আইন, প্রযোজ্য কর রেয়াত, ন্যূনতম কর, উৎসে কর্তন এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিধান বিবেচনা করতে হবে।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই ক্যালকুলেটরের হিসাব সরকারি আয়কর নির্ধারণ বা NBR-এ রিটার্ন জমা দেওয়ার বিকল্প নয়। চূড়ান্ত হিসাবের জন্য NBR-এর নির্দেশিকা ও প্রযোজ্য আইন অনুসরণ করুন।

৫. কারা আয়কর রিটার্ন জমা দিতে বাধ্য?

বাংলাদেশের আয়কর আইন, ২০২৩ অনুযায়ী নির্দিষ্ট শ্রেণির ব্যক্তির জন্য আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক।

শুধু আয় করমুক্ত সীমার বেশি হলেই রিটার্ন দিতে হয়—এমন ধারণা সঠিক নয়।

সাধারণত নিচের ব্যক্তিদের রিটার্ন জমা দিতে হয়:

১. যাদের বার্ষিক মোট আয় নির্ধারিত করমুক্ত আয়সীমা অতিক্রম করে।

২. আয়বর্ষের আগের তিন বছরের মধ্যে কোনো বছরে কর নির্ধারণ হয়ে থাকলে অথবা আয় করযোগ্য হয়ে থাকলে।

৩. কোনো ফার্মের অংশীদার হলে।

৪. কোনো কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার পরিচালক বা শেয়ারহোল্ডার কর্মচারী হলে।

৫. সরকারি কর্মচারী হলে।

৬. কোনো ব্যবসা বা পেশায় নির্বাহী বা ব্যবস্থাপনা পদে বেতনভোগী কর্মী হলে।

৭. কর অব্যাহতি বা হ্রাসকৃত করহারে করযোগ্য আয় থাকলে।

৮. নির্দিষ্ট শর্তে ২০ লাখ টাকার বেশি ঋণ গ্রহণ করলে।

৯. আমদানি বা রপ্তানি নিবন্ধন সনদ গ্রহণ বা বহাল রাখার ক্ষেত্রে।

১০. সিটি করপোরেশন বা পৌরসভা এলাকায় ট্রেড লাইসেন্স গ্রহণ ও নবায়নের ক্ষেত্রে।

১১. নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ক্রেডিট কার্ড গ্রহণ বা বহাল রাখার জন্য।

১২. নির্দিষ্ট মূল্যের জমি, বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্ট নিবন্ধনের ক্ষেত্রে।

১৩. নির্দিষ্ট পেশাজীবী সংগঠনের সদস্যপদ গ্রহণ বা বহাল রাখার ক্ষেত্রে।

১৪. আইন অনুযায়ী রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ (Proof of Submission of Return) জমা দিতে বাধ্য হলে।

এটি উদাহরণভিত্তিক তালিকা। আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ১৬৬ এবং ২৬৪ অনুসারে আপনার ক্ষেত্রে কোন বিধান প্রযোজ্য, তা যাচাই করা প্রয়োজন।

TIN থাকলে কি আয়কর রিটার্ন জমা দিতে হবে?

TIN বা Taxpayer Identification Number থাকলেই প্রত্যেক ব্যক্তিকে কর দিতে হবে, বিষয়টি এমন নয়।

তবে TIN গ্রহণের কারণ, রিটার্ন দাখিলের আইনগত বাধ্যবাধকতা এবং বিভিন্ন সরকারি বা আর্থিক সেবা গ্রহণের শর্ত বিবেচনা করতে হবে।

আপনার আয় করমুক্ত সীমার নিচে হলেও নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক হতে পারে।

৬. ২০২৬–২৭ করবর্ষে অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা কি বাধ্যতামূলক?

হ্যাঁ। NBR-এর বিশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী ২০২৬–২৭ করবর্ষে সব স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতার জন্য অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক।

তবে চার শ্রেণির করদাতা এই বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন:

১. ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রবীণ করদাতা।

২. শারীরিকভাবে অসমর্থ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন করদাতা।

৩. বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতা।

৪. মৃত করদাতার পক্ষে আইনগত প্রতিনিধি।

তাঁরা ইচ্ছা করলে অনলাইনেও রিটার্ন জমা দিতে পারবেন।

এছাড়া, e-Return নিবন্ধনসংক্রান্ত সমস্যার কারণে অনলাইনে রিটার্ন জমা দিতে অসমর্থ হলে যৌক্তিক কারণ দেখিয়ে সংশ্লিষ্ট উপকর কমিশনারের কাছে আবেদন করা যায়। যথাযথ অনুমোদন পেলে কাগজে রিটার্ন জমার সুযোগ পাওয়া যেতে পারে।

৭. আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২০২৬–২৭

২০২৬–২৭ করবর্ষের জন্য NBR-এর বিশেষ e-Return নির্দেশনায় স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতার স্বনির্ধারণী পদ্ধতিতে রিটার্ন জমার সময়সীমা ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে কখন রিটার্ন জমা দিচ্ছেন, তার ওপর কর প্রণোদনা বা অতিরিক্ত কর নির্ভর করবে।

রিটার্ন জমার সময়করের ওপর প্রভাব
১ জুলাই–৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬নিট প্রদেয় করের ৫% প্রণোদনা, সর্বোচ্চ ২৫,০০০ টাকা
১ অক্টোবর–৩১ ডিসেম্বর ২০২৬কোনো প্রণোদনা বা অতিরিক্ত কর নেই
১ জানুয়ারি–৩১ মার্চ ২০২৭নিট প্রদেয় করের ২% অতিরিক্ত কর, সর্বনিম্ন ৩,০০০ টাকা
১ এপ্রিল–৩০ জুন ২০২৭নিট প্রদেয় করের ৫% অতিরিক্ত কর, সর্বনিম্ন ৫,০০০ টাকা

বর্তমান অবস্থা: ৩০ অক্টোবর ২০২৬ অনুযায়ী প্রথম পর্যায়ের ৫% কর প্রণোদনার সময় শেষ হয়েছে।

তাই বর্তমানে রিটার্ন জমা দিলে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে জমা দেওয়াই সুবিধাজনক। এতে জানুয়ারি থেকে প্রযোজ্য অতিরিক্ত কর এড়ানো সম্ভব।

গুরুত্বপূর্ণ: NBR-এর সাধারণ FAQ-তে ৩০ নভেম্বরের নিয়মও রয়েছে। তবে ২০২৬–২৭ করবর্ষের জন্য প্রকাশিত বিশেষ e-Return নির্দেশনায় ৩০ জুন ২০২৭ এবং পর্যায়ভিত্তিক করের যে নিয়ম দেওয়া হয়েছে, এই করবর্ষের ক্ষেত্রে সেটিই অনুসরণ করতে হবে।

৮. আয়কর রিটার্ন জমা দিতে কী কী কাগজপত্র প্রয়োজন?

অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার আগে প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা ভালো।

সব করদাতার জন্য একই কাগজপত্র প্রয়োজন হয় না। আপনার আয়ের উৎস, পেশা, বিনিয়োগ ও সম্পদের ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নথি আলাদা হতে পারে।

ব্যক্তিগত তথ্য

  • e-TIN সার্টিফিকেট।
  • জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)।
  • নিজের নামে বায়োমেট্রিকভাবে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর।
  • বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানার তথ্য।

চাকরিজীবীদের জন্য

  • বেতন সনদ বা Salary Certificate।
  • বেতন থেকে কর্তিত আয়করের বিবরণ।
  • বোনাস ও অন্যান্য সুবিধার হিসাব।
  • প্রভিডেন্ট ফান্ডের তথ্য।
  • ব্যাংক স্টেটমেন্ট।

ব্যবসায়ী ও পেশাজীবীদের জন্য

  • ব্যবসার আয়-ব্যয়ের হিসাব।
  • বিক্রয় ও ক্রয়ের বিবরণ।
  • ব্যাংক স্টেটমেন্ট।
  • ব্যবসায়িক সম্পদ ও দায়ের বিবরণ।
  • উৎসে কর কর্তনের সার্টিফিকেট।
  • প্রয়োজন অনুযায়ী আর্থিক বিবরণী।

ফ্রিল্যান্সারদের জন্য

  • বিদেশি ক্লায়েন্টের পেমেন্ট রেকর্ড।
  • ব্যাংক বা বৈধ পেমেন্ট চ্যানেলের বিবরণ।
  • রেমিট্যান্স বা বৈদেশিক আয় গ্রহণের প্রমাণ।
  • মার্কেটপ্লেসের পেমেন্ট স্টেটমেন্ট।
  • প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কর অব্যাহতির প্রমাণ।

ফ্রিল্যান্সিং আয় হলেই সব ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে করমুক্ত হবে না। আয়টি কোন শ্রেণিতে পড়ে এবং সংশ্লিষ্ট কর অব্যাহতির শর্ত পূরণ করে কি না, তা যাচাই করতে হবে।

সম্পদ ও বিনিয়োগের কাগজপত্র

  • ব্যাংক হিসাবের স্থিতি।
  • সঞ্চয়পত্রের বিবরণী।
  • FDR ও DPS-এর তথ্য।
  • জমি ও ফ্ল্যাটের দলিল।
  • গাড়ির তথ্য।
  • শেয়ার ও অন্যান্য বিনিয়োগ।
  • ঋণ ও দায়ের বিবরণ।
  • জীবনবিমা ও যোগ্য বিনিয়োগের প্রমাণ।

মনে রাখবেন: ২০২৬–২৭ করবর্ষে e-Return জমা দেওয়ার সময় সাধারণভাবে সহায়ক ডকুমেন্ট আপলোড করতে হয় না। তবে রিটার্নে সঠিক তথ্য দিতে সব প্রমাণপত্র সামনে রাখা প্রয়োজন। ভবিষ্যতে যাচাইয়ের জন্য এগুলো সংরক্ষণ করুন।

৯. অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিলের নিয়ম: ধাপে ধাপে

বাংলাদেশে ঘরে বসে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার জন্য NBR-এর e-Return পোর্টাল ব্যবহার করতে হবে।

অফিসিয়াল লিংক: https://etaxnbr.gov.bd

নিচে প্রথমবার অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সম্পূর্ণ পদ্ধতি দেওয়া হলো।

ধাপ ১: e-TIN নম্বর সংগ্রহ করুন

আপনার TIN না থাকলে প্রথমে NBR-এর e-TIN ওয়েবসাইট থেকে নিবন্ধন করতে হবে।

e-TIN ওয়েবসাইট:

https://secure.incometax.gov.bd

জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করে নিবন্ধন সম্পন্ন করুন।

আগে থেকেই TIN থাকলে নতুন করে নিবন্ধন করার প্রয়োজন নেই।

ধাপ ২: e-Return ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন

ব্রাউজার থেকে নিচের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন:

https://etaxnbr.gov.bd

এখানে নতুন ব্যবহারকারীদের জন্য Registration এবং আগে নিবন্ধিত ব্যক্তিদের জন্য Sign in অপশন রয়েছে।

ধাপ ৩: e-Return অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন

প্রথমবার হলে I am not registered yet অপশন নির্বাচন করুন।

নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজন হবে:

  • ১২ সংখ্যার TIN।
  • জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে বায়োমেট্রিকভাবে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর।
  • সচল মোবাইল ফোন।

আপনার মোবাইল নম্বর নিজের NID-তে নিবন্ধিত কি না, তা যাচাই করতে *16001# ডায়াল করতে পারেন।

এরপর TIN ও মোবাইল নম্বর যাচাই করে OTP গ্রহণ করুন। OTP দিয়ে পাসওয়ার্ড সেট করে নিবন্ধন সম্পন্ন করুন।

ধাপ ৪: অ্যাকাউন্টে লগইন করুন

নিবন্ধন সম্পন্ন হলে TIN ও পাসওয়ার্ড দিয়ে e-Return পোর্টালে প্রবেশ করুন।

প্রোফাইলের ব্যক্তিগত তথ্য যাচাই করুন। কোনো ভুল থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধন করুন।

ধাপ ৫: Return Submission নির্বাচন করুন

লগইন করার পর Return Submission মেনুতে প্রবেশ করুন।

এখানে করবর্ষ, করদাতার ধরন এবং প্রযোজ্য অন্যান্য তথ্য নির্বাচন করতে হবে।

সঠিক করবর্ষ ২০২৬–২৭ নির্বাচন করুন।

ধাপ ৬: আয়ের বিবরণ পূরণ করুন

আপনার আয় কোন কোন উৎস থেকে এসেছে, সেগুলো সঠিকভাবে উল্লেখ করুন।

সাধারণত আয়ের উৎস হতে পারে:

  • চাকরি ও বেতন।
  • ব্যবসা বা পেশা।
  • বাড়িভাড়া।
  • ব্যাংক আমানতের সুদ।
  • সঞ্চয়পত্রের মুনাফা।
  • শেয়ার ও বিনিয়োগ।
  • অন্যান্য করযোগ্য আয়।

একাধিক উৎস থেকে আয় থাকলে প্রতিটি উৎসের তথ্য আলাদাভাবে দিতে হবে।

ধাপ ৭: বিনিয়োগ ও কর রেয়াতের তথ্য দিন

আইন অনুযায়ী কর রেয়াতের যোগ্য বিনিয়োগ থাকলে সেগুলোর তথ্য প্রদান করুন।

যেমন:

  • অনুমোদিত জীবনবিমা।
  • অনুমোদিত সঞ্চয়পত্র।
  • প্রভিডেন্ট ফান্ড।
  • যোগ্য পেনশন বা অন্যান্য বিনিয়োগ।

সব বিনিয়োগ কর রেয়াতের যোগ্য নয়। তাই সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী তথ্য প্রদান করতে হবে।

ধাপ ৮: সম্পদ ও দায়ের বিবরণ পূরণ করুন

এবার আপনার সম্পদ এবং দায়ের বিবরণ প্রদান করুন।

যেমন:

  • নগদ অর্থ।
  • ব্যাংক ব্যালেন্স।
  • জমি ও বাড়ি।
  • ফ্ল্যাট।
  • গাড়ি।
  • স্বর্ণালংকার।
  • সঞ্চয়পত্র।
  • শেয়ার ও অন্যান্য বিনিয়োগ।
  • ব্যবসায়িক সম্পদ।
  • ব্যাংক ঋণ ও অন্যান্য দায়।

আগের বছর অনলাইনে সম্পদের তথ্য জমা দিয়ে থাকলে Autofill অপশন ব্যবহার করে পূর্ববর্তী তথ্য আনতে পারবেন। তবে বর্তমান বছরের পরিবর্তন অবশ্যই সংশোধন করতে হবে।

ধাপ ৯: পারিবারিক ব্যয়ের বিবরণ দিন

একটি আয়বর্ষে আপনার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ব্যয়ের হিসাব প্রদান করুন।

যেমন:

  • বাসাভাড়া।
  • খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয়।
  • শিক্ষা ও চিকিৎসা।
  • যাতায়াত।
  • বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাস বিল।
  • অন্যান্য ব্যক্তিগত ব্যয়।

আয়, ব্যয় ও সম্পদের পরিবর্তনের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকা জরুরি।

ধাপ ১০: উৎসে কর্তিত কর ও অগ্রিম কর সমন্বয় করুন

আপনার বেতন, ব্যাংক বা অন্য কোনো উৎস থেকে আগে আয়কর কেটে রাখা হলে তার তথ্য প্রদান করুন।

এছাড়া অগ্রিম আয়কর (AIT) পরিশোধ করে থাকলে সেটিও প্রযোজ্য নিয়মে সমন্বয় করুন।

e-Return Ledger-এর মাধ্যমে উপলব্ধ কর পরিশোধের তথ্য যাচাই করুন।

সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎসে কর কর্তনের তথ্যের ক্ষেত্রে সঠিকভাবে Claim এবং Sync অপশন ব্যবহার করুন।

ধাপ ১১: আয়কর পরিশোধ করুন

সব তথ্য পূরণের পর সিস্টেম আপনার প্রদেয় কর হিসাব করবে।

যদি অতিরিক্ত কর দিতে হয়, তাহলে Tax & Payment সেকশনের Pay Now অপশন ব্যবহার করুন।

NBR-এর অনলাইন পেমেন্ট ব্যবস্থায় উপলব্ধ মাধ্যম ব্যবহার করে কর পরিশোধ করুন।

ধাপ ১২: রিটার্ন সাবমিট করুন

সব তথ্য আবার যাচাই করুন।

বিশেষ করে:

  • মোট আয়।
  • করযোগ্য আয়।
  • বিনিয়োগ ও কর রেয়াত।
  • সম্পদ ও দায়।
  • পারিবারিক ব্যয়।
  • উৎসে কর্তিত কর।
  • প্রদেয় কর।

সব তথ্য সঠিক হলে Submit Return নির্বাচন করুন।

ধাপ ১৩: Acknowledgement Slip ডাউনলোড করুন

সফলভাবে রিটার্ন জমা হলে e-Return সিস্টেম থেকে Acknowledgement Slip পাওয়া যাবে।

এছাড়া Tax Certificate এবং জমা দেওয়া রিটার্নের কপিও Tax Record মেনু থেকে সংগ্রহ করতে পারবেন।

এগুলো আপনার রিটার্ন জমার প্রমাণ হিসেবে সংরক্ষণ করুন।

১০. অনলাইনে আয়কর পরিশোধ করার নিয়ম

রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় অতিরিক্ত আয়কর প্রদেয় থাকলে e-Return পোর্টালের মাধ্যমে কর পরিশোধ করা যায়।

সাধারণত নিচের পেমেন্ট মাধ্যমগুলো উপলব্ধ থাকে:

  • বিকাশ।
  • রকেট।
  • নগদ।
  • ডেবিট কার্ড।
  • ক্রেডিট কার্ড।
  • ইন্টারনেট ব্যাংকিং।
  • e-Challan।
  • সোনালী ব্যাংক পেমেন্ট গেটওয়ে।

কর পরিশোধের পর ট্রানজেকশন বা চালানের তথ্য সংরক্ষণ করুন।

আপনার ব্যাংক থেকে টাকা কেটে নেওয়া হলেও e-Return-এ পেমেন্ট আপডেট না হলে পুনরায় লগইন করে Tax & Payment পেজ যাচাই করুন। সমস্যা অব্যাহত থাকলে NBR-এর সহায়তা নিন।

১১. আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার পর কী কী সুবিধা পাওয়া যায়?

অনলাইনে রিটার্ন সফলভাবে সাবমিট করার পর সাধারণত নিচের সুবিধাগুলো পাওয়া যায়:

১. Acknowledgement Slip।

২. Income Tax Certificate বা Tax Certificate।

৩. জমা দেওয়া রিটার্নের কপি।

৪. অনলাইনে রিটার্ন জমার প্রমাণ।

৫. ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী রিটার্নের তথ্য পুনরায় দেখার সুযোগ।

NBR-এর বর্তমান নির্দেশনা অনুযায়ী, অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়ার পর সাধারণত পুনরায় কাগজের রিটার্ন নিয়ে কর সার্কেলে জমা দিতে হয় না।

১২. আয়কর রিটার্ন জমা না দিলে কী হতে পারে?

যাদের জন্য আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক, তারা রিটার্ন জমা না দিলে আয়কর আইন, ২০২৩ অনুযায়ী জরিমানা ও অন্যান্য আইনি জটিলতার মুখোমুখি হতে পারেন।

আইনের বিভিন্ন ধারায় জরিমানার বিধান আলাদা।

উদাহরণস্বরূপ:

  • ধারা ১৬৬, ১৭২, ১৯১, ১৯৩ বা ২১২-এর অধীনে রিটার্ন জমা দিতে ব্যর্থ হলে সর্বশেষ নিরূপিত আয়ের ওপর ধার্যকৃত করের ১০% হারে জরিমানা হতে পারে, যার সর্বনিম্ন পরিমাণ ১,০০০ টাকা। ব্যর্থতা অব্যাহত থাকলে প্রতিদিন ৫০ টাকা অতিরিক্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।
  • ধারা ১৭৭-এর অধীনে নির্দিষ্ট রিটার্ন, তথ্য বা দলিল দাখিলে ব্যর্থ হলে সর্বশেষ নিরূপিত আয়ের ওপর ধার্যকৃত করের ১০% অথবা ৫,০০০ টাকা—যেটি বেশি—জরিমানা হতে পারে। ব্যর্থতা অব্যাহত থাকলে প্রতি মাস বা মাসের অংশের জন্য ১,০০০ টাকা অতিরিক্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।

এগুলো সব করদাতার জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে একইভাবে প্রযোজ্য নয়। সংশ্লিষ্ট আইনগত বাধ্যবাধকতা ও পরিস্থিতির ওপর জরিমানা নির্ভর করে।

১৩. e-Return জমা দিতে সমস্যা হলে কী করবেন?

অনলাইনে নিবন্ধন, লগইন, তথ্য প্রদান বা পেমেন্টের ক্ষেত্রে সমস্যা হলে NBR-এর সহায়তা নিতে পারেন।

NBR e-Return Hotline: 09643-717171

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, ছুটির দিন ছাড়া সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সহায়তা পাওয়া যায়।

এছাড়া NBR-এর e-Tax Service পোর্টাল ব্যবহার করেও সহায়তা চাওয়া যায়।

e-Tax Service:

https://ticket.etaxnbr.gov.bd

আরও বিস্তারিত নির্দেশনার জন্য NBR-এর সরকারি ওয়েবসাইট:

https://nbr.gov.bd

১৪. আয়কর রিটার্ন ২০২৬ সম্পর্কে সাধারণ প্রশ্ন (FAQ)

১. ২০২৬–২৭ করবর্ষে সাধারণ ব্যক্তির করমুক্ত আয়সীমা কত?

সাধারণ ব্যক্তি করদাতার করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ টাকা। নারী ও ৬৫ বছর বা বেশি বয়সীদের জন্য ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

২. ২০২৬ সালে কত টাকা আয় হলে আয়কর দিতে হবে?

সাধারণ ব্যক্তির বার্ষিক করযোগ্য আয় ৪ লাখ টাকা অতিক্রম করলে প্রযোজ্য করহার অনুযায়ী আয়কর হিসাব করতে হবে। তবে ন্যূনতম কর ও অন্যান্য বিধানও বিবেচনা করতে হবে।

৩. TIN থাকলেই কি আয়কর রিটার্ন জমা দিতে হবে?

TIN থাকা এবং আয়কর পরিশোধ করা এক বিষয় নয়। তবে আয়কর আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে TINধারীর রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক হতে পারে।

৪. আয় করমুক্ত সীমার নিচে থাকলে কি রিটার্ন দিতে হবে?

হ্যাঁ, কিছু ক্ষেত্রে দিতে হবে। নির্দিষ্ট পেশা, লাইসেন্স, ঋণ, ব্যাংকিং সুবিধা এবং অন্যান্য আর্থিক কার্যক্রমের জন্য রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ প্রয়োজন হতে পারে।

৫. প্রথমবার আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার নিয়ম কী?

প্রথমে e-TIN সংগ্রহ করুন। এরপর NID-তে নিবন্ধিত বায়োমেট্রিক মোবাইল নম্বর দিয়ে e-Return অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন। প্রয়োজনীয় আয়, বিনিয়োগ, সম্পদ, দায় ও ব্যয়ের তথ্য দিয়ে রিটার্ন সাবমিট করুন।

৬. প্রথমবার রিটার্ন জমা দিলে ন্যূনতম কর কত?

২০২৬–২৭ করবর্ষে নতুন করদাতার জন্য প্রযোজ্য ন্যূনতম কর ১,০০০ টাকা। তবে প্রকৃত করদায় এর বেশি হলে বেশি পরিমাণ কর দিতে হবে।

৭. অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দিতে কি কোনো ফি লাগে?

NBR-এর e-Return পোর্টালে নিজে রিটার্ন তৈরি ও জমা দেওয়ার জন্য আলাদা সরকারি ফি নেই। তবে প্রযোজ্য আয়কর পরিশোধ করতে হবে।

৮. অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দিতে কি কাগজপত্র আপলোড করতে হয়?

২০২৬–২৭ করবর্ষে সাধারণভাবে সহায়ক কাগজপত্র আপলোড করতে হয় না। তবে সঠিক তথ্য দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় নথি সামনে রাখতে হবে এবং ভবিষ্যতের জন্য সংরক্ষণ করতে হবে।

৯. মোবাইল দিয়ে কি e-Return জমা দেওয়া যায়?

কিছু ফিচার মোবাইলে পাওয়া গেলেও NBR পূর্ণাঙ্গ e-Return ব্যবহারের জন্য ল্যাপটপ বা ডেস্কটপ কম্পিউটার ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে।

১০. ২০২৬–২৭ করবর্ষে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ সময় কত?

NBR-এর বিশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী, স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতার জন্য স্বনির্ধারণী পদ্ধতিতে রিটার্ন জমার শেষ সময় ৩০ জুন ২০২৭। তবে পর্যায়ভিত্তিক অতিরিক্ত কর বা প্রণোদনার নিয়ম রয়েছে।

১১. রিটার্ন জমা দেওয়ার পর কি কর অফিসে যেতে হবে?

সফলভাবে অনলাইনে রিটার্ন জমা দিলে সাধারণত পুনরায় কাগজের রিটার্ন জমা দিতে হয় না। Acknowledgement Slip ও Tax Certificate সংরক্ষণ করুন।

১২. ফ্রিল্যান্সারদের কি আয়কর রিটার্ন দিতে হয়?

ফ্রিল্যান্সারদের ক্ষেত্রেও আয়কর আইন ও প্রযোজ্য রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা অনুসরণ করতে হবে। আয়টি করযোগ্য, কর অব্যাহতিপ্রাপ্ত অথবা বিশেষ শর্তাধীন কি না, তা যাচাই করা জরুরি।

১৩. অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়ার পর ভুল ধরা পড়লে কী করবেন?

NBR-এর নির্দেশনা অনুযায়ী নির্দিষ্ট শর্তে মূল রিটার্ন জমা দেওয়ার ১৮০ দিনের মধ্যে একবার সংশোধিত রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। আপনার ক্ষেত্রে এই সুবিধা প্রযোজ্য কি না, e-Return পোর্টাল বা NBR-এর সহায়তায় যাচাই করুন।

১৪. আয়কর রিটার্ন জমার প্রমাণ কোথায় পাব?

e-Return অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে Tax Record মেনু থেকে Acknowledgement Slip, Tax Certificate এবং জমা দেওয়া রিটার্নের কপি ডাউনলোড করতে পারবেন।

১৫. উপসংহার: সময়মতো আয়কর রিটার্ন জমা দিন

আয়কর রিটার্ন দাখিল করা শুধু একটি আইনি বাধ্যবাধকতা নয়, বরং নিজের আর্থিক অবস্থান, আয়, ব্যয়, সম্পদ এবং দায়ের সঠিক হিসাব রাখার গুরুত্বপূর্ণ উপায়।

২০২৬–২৭ করবর্ষে নতুন করহার, বর্ধিত করমুক্ত আয়সীমা এবং অনলাইন রিটার্ন ব্যবস্থার কারণে করদাতাদের জন্য নিয়মগুলো ভালোভাবে জানা প্রয়োজন।

আপনি চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, ফ্রিল্যান্সার কিংবা বিনিয়োগকারী যাই হোন না কেন, নিজের আয়ের সঠিক হিসাব রাখুন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী রিটার্ন দাখিল করুন।

রিটার্ন জমার আগে NBR-এর সর্বশেষ নির্দেশনা যাচাই করুন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করুন।

প্রয়োজনীয় সরকারি লিংক

ব্যক্তিগত আর্থিক ব্যবস্থাপনা সহজ করুন

শুধু আয়কর রিটার্ন নয়, নিজের আয়, ব্যয়, সঞ্চয় ও বিনিয়োগের হিসাবও নিয়মিত রাখা জরুরি।

বাংলাদেশি ব্যবহারকারীদের জন্য তৈরি JomaKhoros-এ আয়-ব্যয়, ব্যাংক ও মোবাইল ওয়ালেট, বাজেট এবং ব্যক্তিগত আর্থিক হিসাব এক জায়গায় পরিচালনা করতে পারবেন।

এছাড়া বাংলাদেশের বর্তমান স্বর্ণের দাম এবং ব্যক্তিগত আর্থিক পরিকল্পনার জন্য প্রয়োজনীয় টুলগুলোও দেখে নিতে পারেন।

আপনার আর্থিক হিসাব রাখুন গোছানোভাবে, আর করসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিন সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে।


তথ্যসূত্র ও দাবিত্যাগ

এই নিবন্ধটি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রকাশিত আয়কর নির্দেশিকা ২০২৬–২০২৭, অর্থ আইন ২০২৬, আয়কর আইন ২০২৩ এবং e-Return সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশনার ভিত্তিতে তৈরি।

এটি সাধারণ তথ্য ও সচেতনতার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত। ব্যক্তিগত করদায়, কর রেয়াত, আয় অব্যাহতি এবং সম্পদ বিবরণীর ক্ষেত্রে আপনার পরিস্থিতি অনুযায়ী বিধান ভিন্ন হতে পারে। প্রয়োজনে নিবন্ধিত আয়কর আইনজীবী বা যোগ্য কর পরামর্শকের সহায়তা নিন।

সর্বশেষ পর্যালোচনা: ৩০ অক্টোবর ২০২৬।

ট্যাগ: #আয়কর রিটার্ন ২০২৬-২৭ #আয়কর রিটার্ন দাখিলের নিয়ম #অনলাইনে আয়কর রিটার্ন #NBR e-Return #করমুক্ত আয়সীমা ২০২৬-২৭ #আয়কর হার ২০২৬-২৭ #আয়কর হিসাব #বাংলাদেশ আয়কর