ব্যবহার নির্দেশিকা — ধাপে ধাপে সম্পূর্ণ গাইড

বাংলায় আয়-ব্যয়ের হিসাব রাখা, বাজেট করা ও সঞ্চয় ট্র্যাক করার সহজ নির্দেশনা।

বিকাশ, নগদ, ব্যাংক ও নগদ টাকা — সব ওয়ালেটের আয়-ব্যয়, মাসিক বাজেট, দেনা-পাওনা ও সঞ্চয় এক জায়গায় রাখুন। সম্পূর্ণ বাংলায়, ফ্রিতে শুরু।

সর্বশেষ হালনাগাদ: ৪ নভেম্বর ২০২৬

মাত্র ৫ ধাপে শুরু করুন

নতুন? কোনো চিন্তা নেই — প্রায় ৫ মিনিটেই আপনার ডিজিটাল হিসাবের খাতা তৈরি হয়ে যাবে।

  1. অ্যাকাউন্ট খুলুন: ইমেইল দিয়ে বিনামূল্যে রেজিস্ট্রেশন করুন (Google সাইন-ইন চালু থাকলে সেটিও ব্যবহার করা যায়)। কার্ডের তথ্য লাগে না, আর নতুন অ্যাকাউন্টে প্রথম এক মাস Pro-র অধিকাংশ ফিচার ট্রায়ালে পাবেন।
  2. ওয়ালেট যোগ করুন: বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায়, ট্যাপ, ব্যাংক বা নগদ টাকা — যেখানে টাকা রাখেন সেই নামে একটি ওয়ালেট বানিয়ে বর্তমান ব্যালেন্স লিখুন।
  3. ক্যাটাগরি বেছে নিন: বেতন, বাজার, যাতায়াত, বিল — আয় ও ব্যয়ের ধরন অনুযায়ী নিজের মতো ক্যাটাগরি সাজিয়ে নিন।
  4. প্রথম লেনদেন লিখুন: টাকার পরিমাণ, ক্যাটাগরি ও ওয়ালেট বেছে আয় বা ব্যয় যোগ করুন। চাইলে ছোট একটি নোটও লিখে রাখতে পারেন।
  5. রিপোর্টে নিজের চিত্র দেখুন: বিশ্লেষণ পেইজে মোট আয়, মোট ব্যয়, সঞ্চয়ের হার ও ক্যাটাগরিভিত্তিক চার্ট দেখে পরের মাসের পরিকল্পনা সাজান।

ওয়ালেট — সব টাকা এক নজরে

আপনার টাকা যেখানেই থাকুক — মোবাইল ব্যাংকিং, ব্যাংক বা পকেটে — সবকিছুর হিসাব দেখুন এক জায়গায়।

  • ওয়ালেট কী?: ওয়ালেট হলো আপনার টাকা রাখার একেকটি জায়গার হিসাব — যেমন নগদ টাকা, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা মোবাইল ব্যাংকিং। যত খুশি ওয়ালেট বানাতে পারবেন।
  • যেসব ধরন যোগ করা যায়: বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায়, ট্যাপ, ব্যাংক, নগদ টাকা ও অন্যান্য। প্রতিটির আলাদা রঙ থাকায় সহজেই চেনা যায়।
  • ব্যালেন্স নিজে থেকে মিলে যায়: প্রতিটি আয়, ব্যয় বা ট্রান্সফারের সাথে সংশ্লিষ্ট ওয়ালেটের ব্যালেন্স নিজে থেকেই হালনাগাদ হয় — আলাদা করে যোগ-বিয়োগ করতে হয় না।
  • ওয়ালেটের মাঝে ব্যালেন্স ট্রান্সফার: ব্যাংক থেকে বিকাশে বা নগদ থেকে ব্যাংকে টাকা সরালে এখানেও এক ধাপে লিখে রাখুন; দুই ওয়ালেটের ব্যালেন্সই ঠিক থাকবে।
  • নিজের পছন্দের ক্রমে সাজান: ওয়ালেটগুলো টেনে এনে নিজের সুবিধামতো ক্রমে সাজিয়ে রাখা যায়।

জেনে রাখুন: জমাখরচ আপনার ডিজিটাল হিসাবের খাতা

এখানে যে ব্যালেন্স লেখেন তা আপনার নিজের হিসাব — আসল ব্যাংক, বিকাশ, নগদ বা রকেট অ্যাকাউন্টের সাথে সংযুক্ত নয়। এর সুবিধাগুলো:

  • ওয়ালেট বানাতে শুধু নাম আর ব্যালেন্স লিখলেই চলে — পিন, OTP বা পাসওয়ার্ড দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।
  • অ্যাপ থেকে টাকা পাঠানো বা তোলা যায় না, তাই এটি নিশ্চিন্তে হিসাব রাখার একটি জায়গা।
  • আসল অ্যাকাউন্টের সাথে মিলিয়ে নিতে চাইলে যেকোনো সময় ওয়ালেটের তথ্য এডিট করে ঠিক করে নিতে পারেন।
  • কাগজের খাতায় যেমন আয়-ব্যয় লিখতেন, এখানেও তেমনই লিখবেন — শুধু যোগ-বিয়োগ, চার্ট ও রিপোর্ট নিজে থেকে তৈরি হবে।

ক্যাটাগরি — হিসাব গোছানোর চাবিকাঠি

ক্যাটাগরি ঠিক থাকলে প্রতিটি রিপোর্ট ও বাজেট আরও পরিষ্কার হয়।

  • আয় ও ব্যয়ের আলাদা ক্যাটাগরি: আয়ের জন্য বেতন, ব্যবসা, ফ্রিল্যান্স, উপহার; ব্যয়ের জন্য বাজার, বাসাভাড়া, যাতায়াত, বিল, বিনোদন — দুটো আলাদাভাবে সাজানো যায়।
  • নিজের মতো নাম দিন: আপনার জীবনযাত্রার সাথে মিলিয়ে যেকোনো নামে ক্যাটাগরি তৈরি করুন।
  • ছোট করে শুরু করুন: প্রথমে ৫–৭টি ক্যাটাগরি দিয়ে শুরু করলেই যথেষ্ট; পরে দরকারমতো বাড়িয়ে নেওয়া যায়।
  • যেকোনো সময় এডিট বা মুছুন: ক্যাটাগরির নাম বদলানো বা অপ্রয়োজনীয়টি মুছে ফেলা যায় যেকোনো সময়।

লেনদেন — প্রতিদিনের আয়-ব্যয় লেখা

দিনের শেষে মাত্র কয়েক মিনিট — বাকি হিসাব সাজানোর কাজ জমাখরচ করে দেবে।

  • আয় যোগ করুন: টাকার পরিমাণ, ক্যাটাগরি ও কোন ওয়ালেটে এল — তা বেছে আয়ের এন্ট্রি দিন।
  • ব্যয় যোগ করুন: একইভাবে বাজার, ভাড়া, বিল বা যেকোনো খরচ কয়েক সেকেন্ডে লিখে রাখুন।
  • নোট লিখে রাখুন (ঐচ্ছিক): পরে মনে রাখতে সুবিধা হয় — যেমন “মাসের বাজার, করিম স্টোর”।
  • ফিল্টার করে খুঁজে নিন: তারিখ, ক্যাটাগরি, ধরন (আয়/ব্যয়/ট্রান্সফার) ও ওয়ালেট অনুযায়ী লেনদেনের ইতিহাস ছেঁকে দেখুন।
  • ভুল হলে সহজেই ঠিক করুন: যেকোনো লেনদেন এডিট বা মুছে ফেলা যায়; ওয়ালেটের ব্যালেন্সও সেই অনুযায়ী ঠিক হয়ে যায়।

মাসিক বাজেট — খরচ নিজের হাতে রাখুন

মাসের শুরুতে একবার পরিকল্পনা করুন; পুরো মাস কোথায় দাঁড়িয়ে আছেন তা নিজেই দেখতে পাবেন।

  • ক্যাটাগরি ধরে বাজেট ঠিক করুন: খাবার, যাতায়াত, বিনোদন — প্রতিটি ক্যাটাগরির জন্য মাসের সীমা ঠিক করে দিন।
  • অগ্রগতি এক নজরে: কত বাজেট ছিল আর কত খরচ হয়েছে — মোট ও প্রতিটি ক্যাটাগরির অগ্রগতি শতাংশসহ সহজে দেখা যায়।
  • সীমা ছাড়ালে সহজে বোঝা যায়: কোনো ক্যাটাগরি বাজেট ছাড়ালে পেইজেই চিহ্নিত হয়, ফলে সময় থাকতেই খরচ গুছিয়ে নিতে পারেন।
  • পরের মাসে এক ক্লিকে কপি: ভালো একটি বাজেট বানিয়ে ফেললে সেটি পরের মাসে কপি করে নিন; আগের ও পরের মাসের বাজেটও দেখা যায়।
  • লগইন ছাড়াই বাজেট প্ল্যানার: অ্যাকাউন্ট খোলার আগে চাইলে ফ্রি বাজেট প্ল্যানার টুলে আয় ভাগ করে মাসের খসড়া বাজেট বানিয়ে দেখতে পারেন।

দেনা-পাওনা — ধার-দেনার হিসাব আর ভুল হবে না

কার কাছে কত পাবেন, কাকে কত দেবেন — সব এক জায়গায় থাকলে মনে রাখার চাপ কমে যায়।

  • দেনা ও পাওনা আলাদা: যাঁর কাছে টাকা পাবেন সেটি “পাওনা”, যাঁকে টাকা দিতে হবে সেটি “দেনা” — দুটো আলাদাভাবে দেখা যায়।
  • কার সাথে, কিসের জন্য: নাম (যেমন “করিম ভাই”) ও কারণ লিখে রাখুন, যাতে পরে বিস্তারিত মনে করতে সুবিধা হয়।
  • কোন ওয়ালেট দিয়ে হলো: যে ওয়ালেট দিয়ে লেনদেন হয়েছে সেটি বেছে রাখুন, হিসাব আরও গোছানো থাকবে।
  • ফেরতের তারিখ (ঐচ্ছিক): তারিখ দিয়ে রাখলে কবে মেটাতে বা চাইতে হবে তা সহজে বোঝা যায়।
  • পরিশোধিত চিহ্ন: টাকা মিটে গেলে একটি ট্যাপে “পরিশোধিত” করে দিন; দরকার হলে পরিশোধিতগুলোও আলাদা করে দেখা যায়।

সঞ্চয় ও বিনিয়োগ — FDR, DPS, সঞ্চয়পত্র

দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়ের মূলধন, মুনাফা ও মেয়াদ এক পেইজে গুছিয়ে রাখুন।

  • FDR, DPS ও সঞ্চয়পত্র: ব্যাংকের FDR, মাসিক DPS এবং সঞ্চয়পত্রের হিসাব আলাদা আলাদা ট্যাবে রাখা যায়।
  • মূলধন ও আনুমানিক মুনাফা: মোট মূলধন, মুনাফার হার এবং মেয়াদ শেষে আনুমানিক মুনাফা এক নজরে দেখুন।
  • কিস্তির হিসাব: DPS-এর মাসিক কিস্তি ও পরবর্তী কিস্তির সময় সহজে চোখে পড়ে।
  • মেয়াদ শেষ ও প্রকৃত ফলাফল: মেয়াদ শেষ হলে অ্যাকাউন্ট “সম্পন্ন” হিসেবে সরিয়ে রাখা যায় এবং প্রকৃত প্রাপ্তিও লিখে রাখা যায়।
  • ফ্রিতে শুরু, Pro-তে আরও: ফ্রি প্ল্যানে সীমিত সংখ্যক অ্যাকাউন্ট যোগ করা যায়; আরও অ্যাকাউন্টের জন্য Pro আছে।

পুনরাবৃত্তি লেনদেন — বেতন, ভাড়া ও বিল নিজে থেকে

প্রতি মাসে একই হিসাব বারবার লিখতে হবে না — একবার সেট করে রাখলেই হয়।

  • একবার সেট করুন: বাসাভাড়া, ইন্টারনেট বিল, বেতন বা কিস্তির মতো নিয়মিত লেনদেন একবার যোগ করে রাখুন।
  • দৈনিক, সাপ্তাহিক, মাসিক বা বার্ষিক: আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী পুনরাবৃত্তির সময় বেছে নিন।
  • আয় ও ব্যয় দুটোই: মাসিক বেতনের মতো আয় এবং বাসাভাড়ার মতো ব্যয় — দুই ধরনের জন্যই কাজ করে।
  • শুরু ও শেষের তারিখ: শুরুর তারিখ দিন; চাইলে শেষ তারিখও দিয়ে রাখা যায়।
  • ট্রায়াল ও Pro প্ল্যানে: এই সুবিধা নতুন অ্যাকাউন্টের ট্রায়াল মাসে এবং Pro প্ল্যানে পাওয়া যায়।

কাজের তালিকা — আর্থিক কাজ ভুলবেন না

কিস্তি দেওয়া, বিল মেটানো বা টাকা চাওয়া — আর্থিক কাজগুলো তারিখসহ গুছিয়ে রাখুন।

  • টাস্ক ও শেষ তারিখ: যেমন “লোনের কিস্তি দিতে হবে” — শিরোনাম, বিবরণ ও তারিখ দিয়ে কাজ যোগ করুন।
  • অগ্রাধিকার ঠিক করুন: জরুরি কাজকে “উচ্চ” আর সাধারণ কাজকে “মাঝারি” করে সাজান।
  • সাবটাস্ক: বড় কাজকে ছোট ছোট ধাপে ভেঙে একে একে সম্পন্ন করুন।
  • ঋণের সাথে যুক্ত করুন: কোনো টাস্ক নির্দিষ্ট ঋণ বা দেনা-পাওনার সাথে সম্পর্কিত হলে তা যুক্ত করে রাখা যায়।
  • অবস্থা এক নজরে: মোট, চলমান, বিলম্বিত ও সম্পন্ন কাজের সংখ্যা সহজে দেখা যায়।

বিশ্লেষণ ও রিপোর্ট — নিজের টাকার গল্প পড়ুন

আপনার লেখা হিসাব থেকেই জমাখরচ সাজিয়ে দেয় চার্ট, সারাংশ ও পরামর্শ।

  • সময়সীমা বেছে নিন: শেষ ৩০ দিন, এই বছর বা নিজের পছন্দের তারিখ — যে সময়ের চিত্র দেখতে চান সেটি নির্বাচন করুন।
  • এক নজরে সারাংশ: মোট আয়, মোট ব্যয়, ব্যালেন্স, সঞ্চয় ও সঞ্চয়ের হার একসাথে দেখুন।
  • ক্যাটাগরিভিত্তিক চার্ট: আয় বনাম ব্যয় এবং কোন ক্যাটাগরিতে কত খরচ হলো — রঙিন চার্টে সহজে বুঝুন।
  • গড় ও সর্বোচ্চ: গড় আয়-ব্যয়, সর্বোচ্চ আয়-ব্যয় ও ব্যয়-আয়ের অনুপাত দেখে নিজের অভ্যাস বুঝুন।
  • স্মার্ট ইনসাইট: আপনার খরচের ধরন বিশ্লেষণ করে স্বয়ংক্রিয় পরামর্শ — ফ্রিতে বেসিক ২টি, Pro ও ট্রায়ালে সম্পূর্ণ বিশ্লেষণ।
  • PDF ও ছবি হিসেবে ডাউনলোড: রিপোর্ট PDF বা ইমেজ আকারে সংরক্ষণ ও শেয়ার করা যায় (ট্রায়াল ও Pro প্ল্যানে)।

টিপ

প্রতিদিন রাতে মাত্র ২ মিনিট সময় নিয়ে দিনের লেনদেন লিখুন — কয়েক সপ্তাহেই এটি অভ্যাসে পরিণত হবে, আর রিপোর্ট হয়ে উঠবে আরও অর্থবহ।

ফ্রি আর্থিক ক্যালকুলেটর — লগইন ছাড়াই

অ্যাকাউন্ট ছাড়াই ব্যবহার করা যায়। ফলাফল পরিকল্পনার সুবিধার জন্য আনুমানিক হিসাব।

  • আয়কর ক্যালকুলেটর: বাংলাদেশের কর-স্ল্যাব অনুযায়ী বার্ষিক আয়করের হিসাব।
  • যাকাত ক্যালকুলেটর: নিসাব অনুযায়ী সোনা, রূপা, নগদ ও ব্যবসায়িক সম্পদের যাকাত।
  • সঞ্চয়পত্র ক্যালকুলেটর: চার ধরনের সঞ্চয়পত্রের মুনাফা, উৎসে কর ও মেয়াদের আগে ভাঙালে প্রাপ্য টাকা।
  • সঞ্চয় লক্ষ্য ক্যালকুলেটর: কতদিনে লক্ষ্যে পৌঁছাবেন বা মাসে কত জমাতে হবে।
  • ঋণ চাপ বিশ্লেষক (EMI): মাসিক কিস্তি, মোট সুদ এবং আয়ের তুলনায় ঋণের চাপ।
  • লোন APR তুলনা: একাধিক লোন অফারের প্রকৃত বার্ষিক খরচ পাশাপাশি তুলনা।
  • বিনিয়োগ সিমুলেটর: চক্রবৃদ্ধি হারে দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ কত বড় হতে পারে।
  • বাজেট প্ল্যানার: মাসের আয় ভাগ করুন খরচ ও সঞ্চয়ে।
  • লক্ষ্য প্ল্যানার: বাড়ি, গাড়ি, শিক্ষা — একাধিক লক্ষ্য একসাথে পরিকল্পনা।
  • আজকের সোনার দাম: বাজুসের সর্বশেষ সোনা ও রূপার দাম ও দামের ইতিহাস।
  • প্রাইজবন্ড চেকার: যেকোনো ৭ অঙ্কের বন্ড নম্বর লগইন ছাড়াই ড্রের ফলাফলে মিলিয়ে দেখুন। প্রো প্ল্যানে নম্বর সংরক্ষণ করলে নতুন ড্রে নিজে থেকেই মিলে যায়।

ব্যবসা ও স্টক — ছোট দোকানের জন্য

নিজের দোকান বা অনলাইন শপের পণ্য ও স্টকের হিসাবও রাখা যায় একই অ্যাপে।

  • পণ্য যোগ করুন: পণ্যের নাম, ক্যাটাগরি ও একক (যেমন কেজি, পিস, গজ) দিয়ে তালিকা বানান।
  • স্টক ইন ও আউট: কেনা বা বিক্রির সাথে স্টক বাড়া-কমার লগ রাখুন।
  • লো-স্টক সতর্কতা: কোনো পণ্য কমে এলে আগেভাগেই জানতে পারবেন।
  • টিম সদস্য: স্টাফ বা ম্যানেজার হিসেবে সদস্য যোগ করা যায় (Pro প্ল্যানে)।
  • ফ্রিতে শুরু: ফ্রি প্ল্যানে সীমিত পরিসরে ব্যবসা ও স্টক ম্যানেজমেন্ট ব্যবহার করা যায়।

কমিউনিটি — শিখুন, জানুন, আলোচনা করুন

ফোরাম, মেসেজ ও সদস্য তালিকা ব্যবহারে ফ্রি অ্যাকাউন্ট লাগে; ব্লগ সবার জন্য খোলা।

  • ফাইন্যান্স ব্লগ: বাজেট, সঞ্চয়, ঋণ ও কর নিয়ে বাংলায় ব্যবহারিক গাইড — অ্যাকাউন্ট ছাড়াই পড়া যায়।
  • কমিউনিটি ফোরাম: অর্থ-বিষয়ক প্রশ্ন করুন, অন্যের অভিজ্ঞতা থেকে শিখুন।
  • সদস্যদের খুঁজুন: এলাকা ও পেশা অনুযায়ী অন্য সদস্যদের প্রোফাইল দেখুন।
  • ডিরেক্ট মেসেজ: সদস্যদের সাথে সরাসরি কথা বলুন।
  • রিভিউ ও রেটিং: জমাখরচ ব্যবহারের অভিজ্ঞতা লিখুন; অন্যদের রিভিউও পড়ুন।

মোবাইল ও কম্পিউটারে ব্যবহার

আলাদা কিছু ডাউনলোডের ঝামেলা ছাড়াই ফোনের হোম স্ক্রিনে অ্যাপের মতো রাখা যায়।

  • ব্রাউজার থেকেই ব্যবহার: মোবাইল, ট্যাবলেট বা কম্পিউটারের যেকোনো আধুনিক ব্রাউজারে jomakhoros.com খুলেই শুরু করা যায়।
  • হোম স্ক্রিনে ইনস্টল: Android-এ Chrome থেকে এবং iPhone-এ Safari থেকে হোম স্ক্রিনে যোগ করলে অ্যাপের মতো এক ট্যাপে খোলে।
  • সব ডিভাইসে একই হিসাব: একই অ্যাকাউন্টে লগইন করলে ফোন ও কম্পিউটার — দুই জায়গাতেই আপনার হিসাব পাবেন।

সেটিংস ও অ্যাকাউন্ট

অ্যাপটিকে নিজের মতো সাজিয়ে নিন এবং অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখুন।

  • পছন্দের থিম: দিনে হালকা এবং রাতে ডার্ক বা অন্য রঙের থিম বেছে নিলে চোখের আরাম হয়; উপরের বারের বাটন থেকেও বদলানো যায়।
  • পাসওয়ার্ড পরিবর্তন: সেটিংস থেকে যেকোনো সময় নতুন পাসওয়ার্ড দিতে পারবেন।
  • নোটিফিকেশন: গুরুত্বপূর্ণ বার্তা ও ইনসাইট নোটিফিকেশন এক জায়গায় দেখুন।
  • ব্যাকআপ ও রিস্টোর: নিজের সব হিসাবের একটি কপি ফাইল হিসেবে ডাউনলোড করে রাখুন, দরকারে আবার রিস্টোর করুন (Pro প্ল্যানে)।
  • অ্যাকাউন্ট ও ডেটা মুছে ফেলার স্বাধীনতা: চাইলে সেটিংস থেকে বা ডেটা মুছে ফেলার পেইজ থেকে অ্যাকাউন্ট ও সব তথ্য মুছে ফেলার অনুরোধ করা যায়।

ফ্রি, ট্রায়াল ও Pro প্ল্যান

ফ্রিতে শুরু করুন, দরকার হলে ছোট খরচে Pro-তে যান।

  • ফ্রিতে শুরু: ওয়ালেট, লেনদেন, ক্যাটাগরি, বাজেট, ঋণ ও টুডু সীমিত পরিসরে ফ্রি। ক্যালকুলেটর, সোনার দাম ও কমিউনিটি সবার জন্য ফ্রি।
  • প্রথম মাসে Pro ট্রায়াল: নতুন অ্যাকাউন্টে এক মাস Pro-র অধিকাংশ ফিচার ফ্রিতে ব্যবহার করে দেখতে পারবেন।
  • Pro — মাত্র ১০ টাকা/মাস থেকে: বিস্তারিত রিপোর্ট, PDF/ইমেজ এক্সপোর্ট, পুনরাবৃত্তি লেনদেন, সম্পূর্ণ স্মার্ট ইনসাইট, ব্যাকআপ ও রিস্টোর, টিম সদস্য এবং ভেরিফাইড বেজ। সর্বশেষ মূল্য সাবস্ক্রিপশন পেইজে দেখুন।
  • সহজ পেমেন্ট: বিকাশ, নগদ বা রকেটে Send Money করে ট্রানজেকশন আইডি জমা দিলেই হয়।
  • Pro ও ট্রায়ালে বিজ্ঞাপন নেই: Pro ও ট্রায়াল অ্যাকাউন্টে এবং আপনার ড্যাশবোর্ডের ভেতরে কোনো বিজ্ঞাপন দেখানো হয় না।

ভালো ফলের জন্য ছোট কয়েকটি অভ্যাস

  • রাতে মাত্র ২ মিনিট: ঘুমানোর আগে দিনের লেনদেনগুলো লিখে ফেলুন — খুব দ্রুতই এটি অভ্যাসে পরিণত হবে।
  • খরচের সাথে সাথে লিখুন: সম্ভব হলে খরচ হওয়ার সময়ই লিখে রাখলে কিছু বাদ পড়ে না।
  • সপ্তাহে একবার রিপোর্ট দেখুন: বিশ্লেষণ পেইজে কয়েক মিনিট কাটালেই বোঝা যায় কোথায় টাকা বেশি যাচ্ছে।
  • মাসের শুরুতে বাজেট বানান: মাসের প্রথম দিনেই বাজেট ঠিক করলে পুরো মাস নিয়ন্ত্রণে থাকে।
  • মাসে একবার ব্যালেন্স মিলিয়ে নিন: আপনার বিকাশ বা ব্যাংক অ্যাপের ব্যালেন্সের সাথে ওয়ালেটের ব্যালেন্স মিলিয়ে দেখলে হিসাব সবসময় নির্ভুল থাকে।

আপনার তথ্য, আপনার নিয়ন্ত্রণে

আপনার আর্থিক হিসাব ব্যক্তিগত — তাই শুরু থেকেই সুরক্ষা ও স্বচ্ছতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

  • হিসাব শুধু আপনার অ্যাকাউন্টে: আপনার লেনদেন, ওয়ালেট, ক্যাটাগরি, বাজেট ও ঋণের তথ্য ডেটাবেজ স্তরেই আপনার অ্যাকাউন্টের সাথে আলাদা করা থাকে (Row Level Security)। প্রতিটি অনুরোধে ডেটাবেজ নিজেই যাচাই করে তথ্যটি এই ইউজারের কি না।
  • এনক্রিপ্টেড সংযোগ (HTTPS): আপনার ডিভাইস থেকে সার্ভার পর্যন্ত সব ডেটা HTTPS দিয়ে এনক্রিপ্টেড অবস্থায় যায়।
  • পাসওয়ার্ড নিরাপদে সংরক্ষিত: পাসওয়ার্ড কখনো সাধারণ টেক্সটে রাখা হয় না — হ্যাশ করে সংরক্ষণ করা হয়।
  • আসল অ্যাকাউন্টের সাথে সংযোগ নেই: জমাখরচ একটি ম্যানুয়াল হিসাবের খাতা; কোনো ব্যাংক, বিকাশ, নগদ বা রকেটের সাথে যুক্ত নয়। তাই অ্যাপ থেকে আপনার আসল টাকা পাঠানো বা তোলার সুযোগই নেই।
  • পিন, OTP বা কার্ড নম্বর লাগে না: হিসাব রাখতে এসবের কোনো প্রয়োজন নেই, এবং জমাখরচের পক্ষ থেকে কখনো এসব চাওয়া হবে না।
  • নিজের কপি নিজের কাছে: ব্যাকআপ ফিচারে (Pro) নিজের সব হিসাব ফাইল হিসেবে ডাউনলোড করে রাখতে পারেন।
  • ডেটা মুছে ফেলার অধিকার: চাইলে যেকোনো সময় অ্যাকাউন্ট ও সব আর্থিক তথ্য মুছে ফেলার অনুরোধ করা যায়।
  • স্বচ্ছতা: কী তথ্য কীভাবে ব্যবহৃত হয় তা গোপনীয়তা নীতি পেইজে বিস্তারিত লেখা আছে; কোনো প্রশ্ন থাকলে যোগাযোগ পেইজ থেকে জানাতে পারেন।

কেন জমাখরচ আপনার ভালো লাগবে

  • সম্পূর্ণ বাংলায়, টাকায় (৳): ইন্টারফেস, হিসাব ও রিপোর্ট — সবকিছু আপনার নিজের ভাষায়।
  • বাংলাদেশের মাধ্যমগুলোর সাথে মানানসই: বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায়, ট্যাপ ও ব্যাংক — এসবের জন্য আলাদা ওয়ালেট ধরন আছে।
  • এক অ্যাপে সব: আয়-ব্যয়, বাজেট, দেনা-পাওনা, সঞ্চয় ও ক্যালকুলেটর — আলাদা আলাদা অ্যাপের দরকার নেই।
  • ফ্রিতে শুরু, ছোট খরচে আরও: ফ্রিতে শুরু করে প্রয়োজনে মাসে ১০ টাকা থেকে Pro-তে যাওয়া যায়।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

জমাখরচ দিয়ে কীভাবে আয়-ব্যয়ের হিসাব রাখব?

ফ্রি অ্যাকাউন্ট খুলে প্রথমে একটি ওয়ালেট যোগ করুন (যেমন নগদ টাকা বা বিকাশ), তারপর আয় ও ব্যয়ের কয়েকটি ক্যাটাগরি বানান। এরপর প্রতিদিনের আয় বা খরচ লেনদেন হিসেবে লিখলেই ব্যালেন্স, চার্ট ও রিপোর্ট নিজে থেকে তৈরি হয়ে যাবে।

মোবাইলে দৈনিক খরচের হিসাব রাখার সবচেয়ে সহজ উপায় কী?

জমাখরচ ব্রাউজারে খুলে হোম স্ক্রিনে যোগ করে নিন (Android-এ Chrome, iPhone-এ Safari)। এরপর প্রতিদিন রাতে মাত্র ২ মিনিট সময় নিয়ে দিনের খরচগুলো লিখে ফেলুন — এটাই সবচেয়ে সহজ ও টেকসই নিয়ম।

বিকাশ, নগদ ও রকেটের হিসাব কি একসাথে রাখা যায়?

হ্যাঁ। প্রতিটির জন্য আলাদা ওয়ালেট বানালে সব ওয়ালেটের ব্যালেন্স এক জায়গায় দেখা যায়। এক ওয়ালেট থেকে অন্যটিতে টাকা সরালে ব্যালেন্স ট্রান্সফারে লিখে রাখলেই দুই দিকের ব্যালেন্স ঠিক থাকে।

জমাখরচ কি আমার বিকাশ বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সাথে যুক্ত হয়?

না, জমাখরচ একটি ম্যানুয়াল ডিজিটাল হিসাবের খাতা। কোনো ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সাথে যুক্ত হয় না, তাই পিন বা OTP দেওয়ারও দরকার নেই এবং অ্যাপ থেকে আসল টাকা পাঠানো বা তোলা যায় না।

মাসিক বাজেট কীভাবে তৈরি করব?

বাজেট পেইজে মাস বেছে প্রতিটি ক্যাটাগরির জন্য সীমা ঠিক করুন; মাসজুড়ে কত খরচ হলো ও বাজেটের কত শতাংশ ব্যবহৃত হলো, তা পাশেই দেখা যাবে। ভালো একটি বাজেট বানালে পরের মাসে এক ক্লিকে কপিও করা যায়। অ্যাকাউন্ট খোলার আগে চাইলে ফ্রি বাজেট প্ল্যানার টুলে খসড়াও বানিয়ে দেখতে পারেন।

দেনা-পাওনার হিসাব কীভাবে রাখব?

দেনা-পাওনা পেইজে কার সাথে, কত টাকা ও কিসের জন্য — তা লিখে রাখুন; চাইলে ফেরতের তারিখও দিতে পারেন। টাকা মিটে গেলে “পরিশোধিত” চিহ্ন দিয়ে দিন।

FDR, DPS বা সঞ্চয়পত্রের হিসাব কি রাখা যায়?

হ্যাঁ। সঞ্চয় ও বিনিয়োগ পেইজে FDR, DPS ও সঞ্চয়পত্রের মূলধন, মুনাফার হার, মেয়াদ ও কিস্তির হিসাব রাখা যায়। কেনার আগে মুনাফা আন্দাজ করতে চাইলে ফ্রি সঞ্চয়পত্র ক্যালকুলেটরও ব্যবহার করতে পারেন।

প্রতি মাসের বাসাভাড়া বা বিল কি নিজে থেকে এন্ট্রি হবে?

হ্যাঁ, পুনরাবৃত্তি লেনদেনে একবার সেট করে রাখলে দৈনিক, সাপ্তাহিক, মাসিক বা বার্ষিক ভিত্তিতে এন্ট্রি হয়। এই সুবিধা ট্রায়াল মাসে এবং Pro প্ল্যানে পাওয়া যায়।

জমাখরচ কি ফ্রি? Pro প্ল্যানে কী পাব?

রেজিস্ট্রেশন ফ্রি এবং নতুন অ্যাকাউন্টে এক মাস Pro-র অধিকাংশ ফিচার ট্রায়ালে পাওয়া যায়। এরপর ফ্রি প্ল্যানে চালিয়ে যেতে পারেন, অথবা মাসে ১০ টাকা থেকে শুরু হওয়া Pro নিয়ে পূর্ণ রিপোর্ট, PDF/ইমেজ এক্সপোর্ট, পুনরাবৃত্তি লেনদেন, ব্যাকআপ ও রিস্টোরসহ আরও সুবিধা পেতে পারেন।

ক্যালকুলেটরগুলো ব্যবহার করতে কি অ্যাকাউন্ট লাগে?

না, আয়কর, যাকাত, সঞ্চয়পত্র, সঞ্চয় লক্ষ্য, ঋণ, বিনিয়োগ ও বাজেট প্ল্যানারসহ সব ক্যালকুলেটর লগইন ছাড়াই বিনামূল্যে ব্যবহার করা যায়। ফলাফল পরিকল্পনার জন্য আনুমানিক হিসাব।

Android ও iPhone-এ কীভাবে ইনস্টল করব?

Android-এ Chrome-এ jomakhoros.com খুলে মেনু থেকে “হোম স্ক্রিনে যোগ করুন” বেছে নিন। iPhone-এ Safari-তে খুলে শেয়ার বাটন থেকে “Add to Home Screen” দিন। কম্পিউটারেও ব্রাউজার থেকে ইনস্টল করা যায়; ধাপগুলো ইনস্টল পেইজে বিস্তারিত দেওয়া আছে।

আমার হিসাবের তথ্য কি নিরাপদ? কে দেখতে পারে?

আপনার আর্থিক তথ্য ডেটাবেজ স্তরেই আপনার অ্যাকাউন্টের সাথে আলাদা করা থাকে, সব যোগাযোগ HTTPS-এ এনক্রিপ্টেড, আর পাসওয়ার্ড হ্যাশ করে রাখা হয়। বিস্তারিত গোপনীয়তা নীতি পেইজে আছে।

ডেটা ব্যাকআপ নেওয়া বা অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলা যায় কি?

Pro প্ল্যানে সেটিংস থেকে নিজের সব হিসাবের ব্যাকআপ ফাইল ডাউনলোড ও প্রয়োজনে রিস্টোর করা যায়। আর অ্যাকাউন্ট ও সব তথ্য মুছে ফেলতে চাইলে সেটিংস বা ডেটা মুছে ফেলার পেইজ থেকে অনুরোধ করা যায়।

ছোট ব্যবসার পণ্য ও স্টকের হিসাব কি রাখা যায়?

হ্যাঁ, ব্যবসা ও স্টক সেকশনে পণ্য যোগ করে স্টক ইন-আউট লগ ও লো-স্টক সতর্কতা দেখা যায়। ফ্রি প্ল্যানে সীমিত পরিসরে এবং Pro-তে টিম সদস্যসহ পূর্ণ সুবিধায় ব্যবহার করা যায়।

কোনো সমস্যা হলে বা প্রশ্ন থাকলে কোথায় জানাব?

যোগাযোগ পেইজের ফর্মে বার্তা পাঠান; সাধারণত ১–৩ কর্মদিবসের মধ্যে উত্তর দেওয়া হয়। লগইন করা থাকলে ফিডব্যাক ফর্ম থেকেও পরামর্শ বা সমস্যা জানানো যায়। নিরাপত্তার জন্য ইমেইলে পাসওয়ার্ড বা কার্ডের তথ্য পাঠাবেন না।

ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করুন · লগইন করুন